Home > Uncategorized > একটি মৃত্যু

একটি মৃত্যু

শিশির বাবু মারা গেছেন আজ ।

কি অদ্ভুত জীবন মানুষের । কাল সে ছিল। ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে গেসিলো বলে শুরু থেকে ই  তাড়াহুড়ো। কোনো রকমে গুছিয়ে নিলেন। বেড়ে রাখা ভাতগুলো খায়ার সময় পেলেন নাহ। তার স্ত্রী স্নিগ্ধা অনেক সকালে বের হয়ে গেছেন স্কুল এর  উদ্দেশ্যে। স্নিগ্ধা থাকলে এমন ভাবে তাকে বের হতে দিতেন নাহ।  

শিশির বাবুর  আজ পাট কেনার দিন ছিল। তার সহকারী শ্যামল কে নিয়ে হাটে যাবেন তিনি। এই  বয়সে একা একা সমস্যা হয় বলে শ্যামল কে সাথে রাখেন তিনি। এমন নাহ যে তার এই ব্যবসা করতে ই  হবে । কিন্তু অনেক দিনের পুরাতন অভ্যাস। আর এটা  করে ও আনন্দ পান তিনি। তবে আজ শরীর টা ক্লান্ত আর সুয্য টাও ভারী চড়া। 

হাট থেকে ফিরে এলেন ৩ টার  দিকে । শরীর টা একটু ক্লান্ত। স্নিগ্ধা ও  বাড়ি ফিরেছেন । শিশির বাবুর অনিয়ম দেখে ভিষণ রাগ করেছেন তিনি। এই ভাবে ই  মানুষ  টা অনিয়ম করে বলে গাল মন্ধ করলেন। শিশির বাবু কিছু বলেন নাহ স্ত্রীর কথায় । তিনি জানেন তার স্ত্রী তাকে একটু বেশি ই ভালবাসে ।

কিছু সময় পর শিশির বাবুর বুকে ব্যথা। আস্তে আস্তে ব্যথা টা বেড়ে ই  চলল। অতপর ডাক্তার, হাসপাতাল, দৌড়াদৌড়ি। পরের দিন শিশির বাবু মারা গেলেন সকাল ১০ তার দিকে।

দুপুর ১২ টার দিকে তার লাশ বাড়ি ফিরিয়ে আনা হলো । কাল যেটা ছিল শুধু বাড়ি, আজ সেটা মরা বাড়ি। তাকে শুইয়ে রাখা হয়েছে বাড়ির উঠানে । উঠান থেকে ই বিদায় নিবেন তিনি।

একে একে আত্তীয় স্বজন রা আসতেছে। তার ছেলে এবং মেয়েকে ও খবর দেয়া হয়েছে । কিছু কৌতুহলী মানুষ ও আসা শুরু করেছে।

এদিকে অনেক আনুস্থানিকার বাকি রয়েছে। মৃত দেহের সত্কার প্রয়োজন । সন্ধার আগেই দাহ করতে হবে, নতুবা দেহে পচন ধরা শুরু করবে। শশান নেয়ার জন্য, দাহ করার জন্য অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। শিশির বাবুর বন্ধু নিরঞ্জন পাল এই সব কিছুর ব্যবস্থা করতেছেন ।

এদিকে প্রায় সঙ্গাহীন হয়ে গেছেন সিগ্ধা । কি হয়েছে তিনি যেন বুঝে উঠতে পারতেছেন নাহ। তার শুধু ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। দাদা একবার উচু গাছে থেকে পড়ে গিয়েছিলো। বাসায় খুব হইচই। মা খুব কান্না কাটি করতেছে, বাবা কাকা সবাই ছুটাছুটি করতেছে। একবার তরকারি কাটা বটিতে তার হাত কেটে গিয়েছিল। অনেক রক্ত পরতেছিল তার । শুধু এই সব মনে আসছে তার। শরীর তার ক্লান্ত, মনে কেমন একটা আছন্ন ভাব । মনে হস্ছে ধীর্ঘদিন ঘুমান নাহ।

তাদের ছেলে সৌরভ, মেয়ে অদিতি, জামাই চলে এসেছে। মাকে জড়িয়ে ধরে ভীসন কান্না ছেলে মেয়েটার। ছেলেটা কিছুদিন আগে চাকরি পেয়েছে, ইচ্ছা ছিল কিছু দিনের মধ্যে ই বাড়ি আসবে, বাবা মাকে সাথে নিয়ে রাখবে। “কেন এমন হলো খোকা ! কেন তোর বাবা চলে গেল রে আমাদের ছেড়ে?” চিতকার করে কাদতে লাগলো সবাই মিলে।

চলবে …

Advertisements
Categories: Uncategorized
  1. No comments yet.
  1. No trackbacks yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: